ফেরদৌসী

শাহনামা (১ম - ৬ষ্ঠ খণ্ড ) শাহনামা (১ম - ৬ষ্ঠ খণ্ড ) - ঢাকাঃ বাংলা একাডেমি

ইরানের জাতীয় মহাকাব্য - তাদের ভাষায় , শাহনামে আমরা বলি শাহনামা । নাম থেকেই বােঝা যায় এটি রাজাবাদশাহদের কাহিনি । এই সৌধপ্রতিম মহাকাব্যটি রচনা করেন ইরানের মহাকবি ফেরদৌসী , আনুমানিক ৯৭৭ থেকে ১০১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে । কোনাে কোনাে গবেষক অবশ্য আরও সুস্পষ্ট দিন - তারিখ নির্ধারণ করে । বলেছেন , ফেরদৌসী এই অবিস্মরণীয় মহাকাব্য রচনা শুরু করেন ৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে এবং শেষ করেন ৮ ই মার্চ ১০১০ খ্রিস্টাব্দে ।
শাহনামা ষাট হাজার পক্তির বিশাল ও অমূল্য রত্নতিম গ্রন্থ । ২০১০ সালে এ গ্রন্থের সহস্রবর্ষ পূর্ণ হলেও সারাবিশ্বে এর আবেদন এখনাে একটুও কমেনি । শাহনামাকে বলা যায় , মহৎ কবিতা এবং জাতীয় ইতিহাস পুনর্নির্মাণচর্চার একটি তুলনারহিত সৃজন । কারণ , এতে ইরানের প্রাচীন ইতিহাসের একটি অনুপুঙ্খ কাব্যিক পুনর্নির্মাণই ছিল কবির অভীষ্ট লক্ষ্য । এ ধরনের কাজে পূর্বসূরিদের প্রয়াসকে গ্রহণ - বর্জনের মাধ্যমে নবরূপ দিতে হয় । ফেরদৌসী ইতিহাসের দিকে চোখ রেখে সৃজনপটু দক্ষতায় সে কাজ সম্পন্ন করেছেন । এই কাব্যগ্রন্থের একটি অংশ ফেরদৌসীর স্বকীয় সৃজন - উৎস থেকে উদ্ভাবিত । অন্যদিকে , সমকালীন গদ্য লেখকদের , বিশেষ করে আবু মনসুর দাকিকির ( Abu Mansur Daqiqi ) রচনাকে তিনি বেছে নেন বীজসূত্র হিসাবে , বিশেষজ্ঞরা এমনটাই মনে করেন ।
শাহনামার ইতিহাস পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে শুরু করে সপ্তম শতাব্দীতে পারস্যে ইসলামের বিজয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত । শাহনামা প্রধানত ইরানের পৌরাণিক , বীরত্বব্যঞ্জক এবং ঐতিহাসিক যুগসমূহের কীর্তিগাথাকে সমন্বিত করে বিশাল প্রেক্ষাপটে মানবিক আবেদন এবং শাশ্বত মূল্যচেতনাঋদ্ধ মহৎ সাহিত্যিক মাস্টার পিস । শাহনামা ইরানের জাতিতাত্ত্বিক , সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং ইতিহাসের কালক্রমিক অভিযাত্রায় তুর্ক মুঘলসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জাতি - পরিচয়কেও ধারণ করেছে । এ বিবেচনায় এটি বহু সংস্কৃতিকে আত্মস্থ করা এক বিশ্ব - মহাকাব্যেরই অন্তর্ভুক্ত ।


অনুবাদ, চিরায়ত বই, মহাকাব্য,শাহনামা

891.551 / ফরস

Library Home | Contacts | BCS Admin Academy Home

Last Update on February 04, 2025
Copyright @ 2025 BCS Admin Academy Library
BCS Admin Academy